আমি শাহাদাত রহমান শিমুল, Pixelll এর প্রতিষ্ঠাতা ও ডিজাইনার
আমি যেভাবে কাজ করি

tanvir-zunaed-featured-image-1050x500
Shares

নাম এবং পেশা

শাহাদাত রহমান শিমুল, Pixelll এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ডিজাইনার, একইসাথে (বর্তমানে) Creative House of V এর Head of 3D & VFX।

কবে কখন কিভাবে আপনি ডিজাইনের জগতে আসেন? আপনি কি ছোট বেলা থেকেই এমন সৃজনশীল ছিলেন বা নির্দিষ্ট একটি সময় পার হবার পরে এমন হয়েছেন?

একটু বড় হয়ে যাবে হয়ত, তারপরও বলি। আমি ডিজাইনের জগতে আসি ২০০৮ সালের শেষের দিকে, তখন সবে ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে শেষ করেছি। কি করব মাথায় আসছিল না। একদিন আমাদের এলাকায় আমার এক ক্লাসমেটের ফটো স্টুডিওর দোকান দেখতে পাই। সেখানে গিয়ে তার ছবি এডিট করা দেখে আমি তাকে কলেজ ট্যুরে রাঙ্গামাটিতে তোলা একটা ছবি এডিট করে দিতে বলি। সে খুব সুন্দর করে এডিট করে যা দেখে আমি খুব বিস্মিত হয়ে যাই এবং কয়েকদিন পর তাকে আরও একটি ছবি এডিট করে দিতে বলি। সে করে দিবে দিচ্ছে বলে বেশ কিছুদিন ঘুরানোর পর তার দোকানের এক স্টুডেন্ট/কর্মচারী কে দিয়ে এডিট করিয়ে দেয়। ব্যাপারটা আমার খুব খারাপ লাগে এবং আমার জিদ চেপে যায়। তখন থেকে তার দোকানে তার পিছনের চেয়ারে আড্ডার নাম করে বসে বসে আমি ফটো এডিটিং (গ্রাফিক ডিজাইন নয়) শিখে ফেলি। এরপর বিভিন্ন বন্ধুদের মোবাইল দোকানে এবং ছোটভাইদের বাসায় গিয়ে গিয়ে (বিভিন্ন জ্বালাময়ী খোঁচা শুনতে শুনতে) আমি ওদের কম্পিউটারে প্র্যাকটিস করতে থাকি। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমার আব্বু আমাকে তাঁর জমানো টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটা ডুয়েল কোর কম্পিউটার কিনে দেন। তারপর থেকে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত বসে বসে আমি ফটোশপ প্র্যাকটিস করতে লাগলাম।

উইন্ডোজ এক্সপি চালালেও এক্সপি এবং ভিসতার ওয়ালপেপারগুলো দেখতাম মনোযোগ দিয়ে আর বিস্মিত হতাম যে কিভাবে কোন সফটওয়্যার দিয়ে এগুলো বানানো হত! গ্রামীনফোনের এক জিবির প্যাকেজই ছিল আমার শেষ ভরসা। বাসায় ইন্টারনেট চালানো নিষেধ ছিল। আমার আব্বু মনে করতেন (বিভিন্ন মাধ্যমে শুনে), আমি নষ্ট হয়ে যাব (পরে অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে আব্বুই প্রত্যেক মাসে ইন্টারনেটের প্যাকেজ কিনে দিতেন)। লুকিয়ে লুকিয়ে ইন্টারনেট চালিয়ে চালিয়ে গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে শিখতে একদিন আমি ওডেস্ক আর গ্রাফিকরিভারের খবর পাই। ওডেস্ক কেন জানি আমার কাছে অতটা আকর্ষণীয় মনে হয়নি। গ্রাফিকরিভারের রয়্যালিটিটাই আমাকে প্রচন্ড মুগ্ধ করেছে এবং জুলাই ২০১০ এ আমি গ্রাফিকরিভারে একটি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করি। এরপর বহু চেষ্টা করেছি ফাইল অ্যাপ্রুভ করানোর জন্য। আমি দেখি আমার ফাইলটি অন্যান্য অনেকের চাইতে সুন্দর হয়েছে অথচ গ্রাফিকরিভার ওদেরটা অ্যাপ্রুভ করল আর আমারটা করল না। বার বার হতাশ হয়ে যাচ্ছিলাম। অবশেষে অগণিত চেষ্টার পর প্রায় ১ বছর ৩ মাস পরে আমার একটি ফ্লায়ার ডিজাইন অ্যাপ্রুভ হয়, আর আমি খুশিতে ধেই ধেই করে নাচতে থাকি।

না, আমি ছোট বেলা থেকেই সৃজনশীল ছিলাম না। আমাকে আম্মু তৈল-পেয়াজ-রসুন আনার জন্য আব্বুকে বলতে বলেছিলেন। আমি তৈল-পেয়াজ-রসুন, তৈল-পেয়াজ-রসুন এভাবে শব্দ করে আওড়াতে আওড়াতে দোতলা থেকে নিচতলায় যেয়ে আব্বুকে বলতাম এগুলো কিনে দেয়ার জন্য। খুবই ভুলোমনা ছিলাম এবং সবকিছু ভালমত মুখস্থ করতে হত।

এরপর সিক্সে কিংবা সেভেনে উঠার পর নানার বুকশেলফ থেকে আমি তিন গোয়েন্দার একটি বই (বইটির নাম – ঝামেলা) পাই এবং সেটা এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলি। তখন থেকেই আমি তিন গোয়েন্দার ফ্যান হয়ে যাই। তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা, রহস্য পত্রিকা, কিশোর কন্ঠ ইত্যাদি আমি প্রচুর পরিমানে পড়েছি এবং আস্তে আস্তে সৃজনশীল হয়ে উঠতে শুরু করি। কলেজে উঠার পর আমি গান, গল্প, কবিতা, মজার মজার এসএমএস এবং বিভিন্ন গানের প্যারোডি লিখতাম। এসব করেই কলেজ সময়টা পার করেছি। ইন্টারে পাশ করেছি খুব খারাপ গ্রেড নিয়ে। এ নিয়ে আমি খুব খুব খুব হতাশ ছিলাম এবং ওই ফটো এডিটিং এর দোকানই আমাকে এই হতাশা থেকে উদ্ধার করে…

Software: Adobe Photoshop CS5 Layers: 75 Time: 7.5 Hours

কোথা থেকে আপনি প্রতিদিন ডিজাইন করার উৎসাহ পান?

আমি মূলত প্রথম দিকে উইন্ডোজ এক্সপি ভিসতার ওয়ালপেপার গুলো এবং নেটে যে ডেস্কটপ ওয়ালপেপার গুলো পাওয়া যায় সেগুলো থেকেই ডিজাইনের জন্য নিত্য নতুন আইডিয়া এবং উৎসাহ পেতাম। তাছাড়া কম্পিউটার কিনার সময়ই দোকানীরা হাজার হাজার ওয়ালপেপার কালেকশন দিয়ে দিয়েছিল যা আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। এরপর গ্রাফিকরিভারে ঢোকার পর গ্রাফিকরিভার, ডেভিয়েন্টআর্ট, বিহ্যান্স আমার প্রতিদিনকার ডিজাইন করার অনুপ্রেরণা ছিল এবং এখনও এই তিনটি সাইট থেকেই আমি সবসময় অনুপ্রেরণা নিই।

  1. https://graphicriver.net
  2. https://behance.net
  3. https://deviantart.com
  4. https://pinterest.com
  5. https://creativemarket.com

এবং অবশ্যই গুগল সার্চ।

আপনার চোখে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ডিজাইনার কে?

আমার চোখে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ডিজাইনার আমার সৃষ্টিকর্তা, আমার আল্লাহ্। মাঝখানে একবার প্রাণি এবং মানবদেহের জটিল রহস্যগুলো নিয়ে কিছুটা স্টাডি করেছিলাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম আল্লাহ্‌ কত মহান, কত সুন্দর এবং যুগপৎ জটিল তার চিন্তা ভাবনা। তিনি যে মাষ্টার প্ল্যানার তাতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তার উপর আমি বেশ ভ্রমনপিপাসু। যেখানেই যাই সেখানেই দেখি ডিজাইনের ছোয়া। তিনি এমনভাবে এই দুনিয়া ডিজাইন করেছেন, এবং কোরআন নামক টিউটোরিয়াল দিয়ে দিয়েছেন, এটা ফলো করলে প্রত্যেকের জন্যই এই দুনিয়া বেহেশ্‌তস্বরূপ হয়ে যেত। এর ইউআই যেমন সুন্দর, তেমনি টিউটোরিয়াল মোতাবেক চললে এর ইউএক্সও তেমন ইফেক্টিভ।

আর যদি মানুষের কথা বলেন, বিশেষ করে পছন্দের ডিজাইনার বা আর্টিস্ট কে, তাহলে দুইজন মানুষকে আমি একটু অন্য চোখে দেখি।

Dylan Cole – http://www.dylancolestudio.com/

Erik Johansson – http://www.erikjohanssonphoto.com

ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে এমন টুলস বা সফটওয়্যারের নাম বলুন যেটি ছাড়া আপনার চলা প্রায় অসম্ভব এবং কেন?

আসলে আমাদের দেশে ডিজাইনার কম, টুলস বা সফটওয়্যার ইউজার বেশি। তবে মূলত ডিজাইন করতে যা বোঝায় সেটা হচ্ছে আপনার সৃজনশীল চিন্তা। ওটাকে কাগজে কলমে এবং ইলেকট্রনিক্যালি বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তব রূপ দিতে হয়। আমি কাগজ-কলম-পেন্সিল-প্রোগ্রাম, সবগুলোকেই আমার প্রয়োজনমত কাজে লাগাই। তবে বেশকিছু টুলস এবং সফটওয়্যারের নাম বলতে পারি যেগুলো ছাড়া আমার চলা প্রায় অসম্ভব যেমন – ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, সিনেমা ৪ডি, আফটার ইফেক্টস, ডিএসএলআর ক্যামেরা, লাইটরুম, গুগল কিপ, স্মার্টফোন।

আপনি যখন কোন ডিজাইন করার জন্য মনস্থির করেন তখন ডিজাইনটি করার আগে স্কেচ বা ছবি এঁকে নেন নাকি সরাসরি কম্পিউটারে ডিজাইন করা শুরু করে দেন?

আমি প্রথমে কিছুক্ষন ভাবি এবং মনে মনে সেটার ডিজাইন করা শুরু করি। ডিজাইন/কনসেপ্টের জটিলতা বেশি হলে বা প্রজেক্ট বেশ বড় হলে কাগজ-কলম-পেন্সিল নিয়ে বসি। রেগুলার ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমি মনে মনে ডিজাইন করার পর সফটওয়্যারে কাজ করা শুরু করে দেই। কখনো কখনো বিভিন্ন মানুষের অনুরোধে ঢেঁকিও গিলতে হয় অর্থাৎ শর্টকার্টে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ডিজাইন করে দিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমি সময় নষ্ট না করে ইন্টারনেটে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন খুজতে থাকি এবং সেখান থেকে নিজের মত করে একটা কনসেপ্ট বের করার চেষ্টা করি। এরপর ডিজাইন করি, এবং ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রেই সেই ডিজাইনগুলো আমি ওয়েবে পাবলিশ করি না বা কাউকে দেখানোর প্রয়োজন মনে করিনা। আর যেকোন ডিজাইনের ক্ষেত্রেই আমি পাবলো পিকাসোর মডিফায়েড একটা উক্তি মাথায় রাখি… Good designers copy, great designers steal!

Tinti flyer (poster) design

কাজ করার সময় আপনি কোন ধরনের গান শুনতে পছন্দ করেন?

দুঃখিত আমি কাজ করার সময় গান শুনতে খুব একটা পছন্দ করি না। তবে গত দুই-তিন বছর আগেও আমি কাজ করার সময় প্রায় সারাদিনই গান শুনতাম। এখন আস্তে আস্তে সে অভ্যাসটা কমে গিয়েছে। তবে মাঝে মাঝে এখনও গান শুনতে শুনতে কাজ করি। সেক্ষেত্রে আমি ইউটিউবে অথবা সাউন্ডক্লাউডে গান প্লে করি। মুড অনুযায়ী Dubstep, Chillstep, Bollywood, Bangladeshi Pop এবং English Popular গানগুলো শুনি। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি বিভিন্ন ইউজারদের ক্রিয়েট করা প্লেলিস্ট চালু করি।

ও হ্যা, রাতের বেলা সব নীরব হয়ে গেলে আমি প্রায়ই Noisli শুনি। প্রোডাক্টিভিটির জন্য মিউজিক প্লে করে দিয়ে কাজ করি, আর রিল্যাক্সিং এর জন্য রাতের বেলা রুমের আলো নিভিয়ে চোখ বন্ধ করে হেডফোনে শুনি। https://www.noisli.com/ -এ গিয়ে আপনিও শুনতে পারেন। কথা দিচ্ছি, আমাকে থ্যাংকস জানানোর কথা ভুলে যাবেন।

আপনার জীবনের টাইম সেভিং শর্টকাট অথবা লাইফ হ্যাক কি?

উমম.. আমি বাথরুমে গেলে দাঁত মাজা, গোসল করা এবং টয়লেটে প্রচুর পরিমানে ব্রেইনস্টর্মিং করি। বাসে সিএনজিতে বসে আমি বিভিন্ন ইমেইল, ফেসবুক-টুইটার নোটিফিকেশন চেক করি এবং প্রয়োজন মোতাবেক রিপ্লাই দেই। তাছাড়া আমি ছবি তুলতে ভালবাসি, একারনে বাইরে কোথাও গেলে ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির ছবি তোলার পাশাপাশি প্রকৃতি এবং বিভিন্ন টেক্সচারের ছবি তুলি যা আমাকে পরবর্তীতে ডিজাইনে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে দেয়। এমনিতে ডিজাইনের ক্ষেত্রে বা কোন দ্বায়িত্ব নিলে আমি তাড়াহুড়ো পছন্দ করি না, যা করার ধীরেসুস্থেই করি।

প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট তৈরি করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থাটি আপনার কাছে সেরা মনে হয়?

Google Keep… আমার সবসময়ের সঙ্গী। আমি যখন তখন যেকোন ডিভাইস থেকে গুগল কিপ অ্যাক্সেস করতে পারি এবং এটা অটোমেটিক্যালি সিঙ্ক্রোনাইজ করে। অফিসের কম্পিউটারে কিছু টুকে রাখলে বাসার কম্পিউটারে কিংবা আমার মোবাইলে যেকোন সময় অ্যাক্সেস করতে পারি। এছাড়াও কারও জন্মদিন কিংবা কোন বিশেষ দিনে বিশেষ কিছু করতে হলে সেটা আমি রিমাইন্ডার হিসেবে গুগল ক্যালেন্ডারে সেইভ করে রাখি। যদিও গুগল কিপ এর মধ্যেই রিমাইন্ডার সেট করা যায় কিন্তু এই ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডার আমার বেশ পছন্দের।

একজন বাংলাদেশি হিসেবে যানজট আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আপনি যানজটের সময়টাকে সদ্ব্যবহার করার জন্য কী করেন?

যানজটটা আসলেই অনেক ভোগায়, তবে বাসে এবং সিএনজিতে থাকলে আমি কিছুক্ষন আবোলতাবোল ভাবি, মোবাইলে বিভিন্ন নোটিফিকেশন চেকসহ, মেইল-মেসেজের রিপ্লাই দেই। আর রিকশায় থাকলে আমি মোবাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করি না, প্রকৃতি উপভোগ করি এবং আশেপাশের মানুষ দেখি, পর্যবেক্ষন করি, রাস্তাঘাটের বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি দেখি।

আপনার মোবাইল এবং কম্পিউটার ছাড়া এমন কী ডিভাইস ব্যাবহার করেন যেটা ছাড়া আপনি থাকতে পারবেন না?

আমার ক্যামেরা (যেকোন ক্যামেরা – Smartphone, Action Cam, DSLR) এবং আমার স্ত্রী। হা হা হা, আমার স্ত্রী এবং আমি, দুইজন দুইজনের জন্য নিজেরাই মোস্ট ইম্পর্টেন্ট ডিভাইস। প্রতিদিনই চলতে ফিরতে দু’জনকে দু’জনের খুব কাজে লাগে। তাছাড়া এই স্ত্রী নামক ডিভাইসটি প্রতিনিয়ত আমার কাজের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আমি আগে অনেকটা ভবঘুরের মত চলা-ফেরা করতাম, এই ডিভাইসের কারনে আমার ইউআই এবং ইউএক্স এর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, আরও ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়েছে।

এছাড়াও আরেকটি ডিভাইস মনে হচ্ছে অচিরেই আমার প্রতিদিনকার ডিভাইস হতে যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে Amazon Echo।

Working Desk

দিনের ঠিক কোন সময়ে আপনি খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন? আপনার দৈনিক ঘুমানোর সময়সূচি কেমন?

আমি সাধারনত রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যেই ঘুমিয়ে যাই এবং সকালে ৮টার দিকে উঠি। সব ধরনের সিচুয়েশনেই মনযোগ দিয়ে কাজ করতে পারি। মনযোগটা আমি মনে করি আমার নিজের মনের ব্যাপার। তবে আমি বেশকিছুদিন ফজরের নামাজ পড়ে কাজ করেছি। সেসময় আমি একটু বেশি মনযোগসহকারে এবং বেশি ইফেক্টিভ কাজ করতে পারতাম। ব্রেইন খুব ভাল কাজ করে ওই সময়ে। ইচ্ছা আছে ওই রুটিনে কাজ করার।

প্রতিদিন আপনার কাছে এমন কী মনে হয়, যে আপনি সবার থেকে আলাদা?

আমি অলস প্রকৃতির হলেও যেকোন কাজ আমি শেষ করতে পছন্দ করি। অনেকেই আছেন বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নিয়ে সেটা শেষ করতে পারেন না, এক্ষেত্রে আমি ব্যতিক্রম। নিজের মনের মত কনসেপ্টে চলি। ট্রেন্ডে গা ভাসাতে খুব একটা পছন্দ করি না। আর আমি সবসময় কোনকিছু করার জন্য বেটার ওয়ে খুজি। মানুষকে সাহায্য করতে ভাল লাগে আমার, তাই এখানেও মানুষকে সাহায্য করার জন্য বেটার ওয়ে খুজে বের করেছি যাতে একসাথে অনেক মানুষকে সাহায্য করা যায়।

আপনার কাছে গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ কোনটি মনে হয়েছে?

সেরা উপদেশ তো একটাতে আটকে রাখা যায় না, অনেকগুলো উপদেশই সেরা মনে হয়েছে।

– “ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়”

– “ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না”

তিনটা বই এবং চলচ্চিত্রের নাম বলুন যা আপনি মনে করেন সব ডিজাইনারদের পড়া এবং দেখা উচিত?

আসলে অল্প কিছু বই পড়েছি এবং মুভি অনেক দেখেছি। সব ডিজাইনারদের পড়া এবং দেখার মত এরকম কিছু আলাদা করতে পারছিনা।

যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মন মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কী করেন?

যখনই জটিল কোন পরিস্থিতি আসে বা আমি লক্ষ্য করি যে একসাথে বেশ কিছু কাজ করতে গিয়ে বা কোন জটিল কাজ করতে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছে তখন আমি উদ্দেশ্যহীন বিভিন্ন কাজ করি। এর মধ্যে দুইটা উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে ব্রিজ/ছাদের উপর গিয়ে বসে বসে প্রকৃতি দেখা এবং অনেক্ষন ধরে শাওয়ারের নিচে চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে থাকা। এরপর আবার ধীরে ধীরে ভাবি, নতুন প্যাটার্নে চিন্তা করি এবং কাজ সম্পন্ন করি।

এনভাটো মার্কেটপ্লেসে কিংবা ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করার ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

এটি একটি অসাধারন অভিজ্ঞতা। আমি ওডেস্ক (বর্তমানে আপওয়ার্ক), ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার, পিপল পার আওয়ার এগুলোর নাম শুনলেও কখনো এগুলোতে আমার আগ্রহ কাজ করেনি। আমি পুরোপুরি স্বাধীন কিছু করতে চেয়েছিলাম যেকারনে আমি মার্কেটপ্লেসে সেল করা তথা প্রোডাক্ট সেলিং কে বেছে নেই। যখন ইচ্ছা তখন প্রোডাক্ট বানাই, আপলোড করি। সেলও হয় নিয়মিত, ক্লায়েন্টের কাছে আমাকে যেতে হয়না। তাছাড়া সবচেয়ে মজা লাগে, আমি ওয়াশরুমে থাকলেও আমার সেল হয়, ঘুমিয়ে থাকলেও আমার সেল হয়, বেড়াতে গেলেও সেল হয়, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলেও আমার সেল হয়। এর চাইতে মজার ব্যাপার রয়্যালিটি ইনকাম বা প্যাসিভ ইনকাম ছাড়া আপনি কোথাও পাবেন না। তাছাড়া আমি রাত জেগে কাজ করা অপছন্দ করতাম এবং রাত জাগার প্রভাব সম্পর্কে আমি ভালভাবে অবগত। এটাও একটা উল্লেখযোগ্য কারন যার জন্য আমি প্রোডাক্ট সেল করাকে বেছে নিয়েছি। অন্যান্য ক্লায়েন্ট বেজড ফ্রিল্যান্সার যারা আছেন, আমি মনে করি তাদের প্রত্যেকেরই ক্লায়েন্টের কাজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করা উচিত। এতে যে শুধু একটা বাড়তি আয় হবে তা নয়, এখান থেকেও বিভিন্ন ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন প্রয়োজনে যোগাযোগ করে অথোরদের সাথে।

এসব মার্কেটে নিয়মিত ভাল সেল করতে হলে কি করা উচিত?

প্রথমত, যেসব ক্যাটেগরীতে প্রতিযোগীতা কম সেসব ক্যাটেগরীর জন্য প্রোডাক্ট বানানো উচিত। সবসময় বেশি বেশি প্রোডাক্ট না বানিয়ে কোয়ালিটি সম্পন্ন প্রোডাক্ট বানানো উচিত। টুকিটাকি মার্কেটিং করা উচিত। নিজের একটা ওয়েবসাইট থাকলে খুবই ভাল হয়। আর তা না হলে একটা ফেসবুক পেইজ কিংবা টুইটার অ্যাকাউন্টকে যত্নসহকারে যথাযথভাবে ব্যবহার করলেও ভাল সেল পাওয়া যায়।

আপনি কি শুধু এনভাটোতেই কাজ করেন নাকি অন্য কোন মার্কেটপ্লেসেও কাজ করেন?

হ্যা, আমি অন্যান্য মার্কেটপ্লেসেও কাজ করি। আমি গ্রাফিকরিভার (এনভাটো), ক্রিয়েটিভমার্কেট, দিহাঙ্গরিজেপিইজি, সেলফি (Sellfy), কিউবব্রাশ এবং গামরোড-এ সেল করি। এর মধ্যে সেলফিতে আমি এখন পর্যন্ত কোন সেল পাইনি এছাড়া বাকিগুলোতে ভাল সেল পেয়েছি। ইটসি নামক আরেকটা মার্কেটপ্লেসে সেল করার খুব ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পেপাল অ্যাকাউন্ট ছাড়া সেখানে প্রোডাক্ট আপলোড করা যায় না বিধায় আমি আর সেখানে আগাইনি।

এমন কোন প্রজেক্ট আছে যেটা নিয়ে আপনি গর্ববোধ করেন?

আমি আমার অনেক সময় ব্যয় করে অনেক মানুষকে বিভিন্ন কাজ শিখিয়েছি। যারা পরবর্তীতে নিজেদের সুযোগ বুঝে সরে গিয়েছে। বেশ কয়েকবার আমি টিম নিয়ে বড় কিছু করতে গিয়েছি এবং প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি। গত দুই বছর ধরে আমি মানুষকে আগেরমত সাহায্য করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি। আর আমার পিক্সেল নামক প্রতিষ্ঠানটি করেছি দু’টো কারনে। এক, আমি আমার প্রোডাক্ট এখান থেকে সেল করতে চাই। দুই, সারা বিশ্বের সকল ডিজাইনারদের আমি হেল্প করতে চাই বিভিন্ন ফ্রি ডিজাইন রিসোর্স দিয়ে। অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইটেই ফ্রি রিসোর্স শেয়ার করে ডিজাইররা। সেগুলোর ৯০ ভাগই থাকে পার্সোনাল ইউজের জন্য। আমি আমার ফ্রি রিসোর্সগুলো পার্সোনাল এবং কমার্শিয়াল দুইভাবেই ব্যবহারের সুযোগ দিতে চাই সবাইকে। আমি লক্ষ্য করেছি যে আমার লেন্স ফ্লেয়ার প্যাক ফ্রি রিসোর্সটি দশহাজারেরও উপরে ডাউনলোড হয়েছে এবং সেই থেকেই আমি এই পদ্ধতিতে অন্যান্য ডিজাইনারদের সাহায্য করার উপায় এবং উৎসাহ খুজে পাই। এছাড়া আরেকটি জিনিস নিয়ে গর্ব করি। ঠিক গর্ব নয়, কিন্তু যখন কেউ ব্যবহার করে, তখন খুব ভাল লাগে। সেটি হচ্ছে আমার ডিজাইন করা অল্পকিছু বাংলা বর্ণমালা। ফ্লিকারে আমার অ্যালবামে গেলে এটি দেখতে পাবেন। https://www.flickr.com/photos/shemul13/albums/72157640423523125 ফেসবুকে প্রতিবছর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারী মাসে প্রচুর মানুষ এই ডিজাইনগুলি নিজেদের প্রোফাইল পিকচার হিসেবে আপলোড করে। অনেকেই জানেনা কার ডিজাইন করা, কিন্তু যখনই আমি কারো প্রোফাইলে দেখি, আমার খুব ভাল লাগে, মনটা ভরে যায়।

Bangla Bornomala

আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বা ইচ্ছা কি? আপনার প্রতিষ্ঠান/প্রজেক্ট পিক্সেল-এর জন্য কি কোন ফিজিক্যাল প্লেস নেয়ার ইচ্ছা আছে?

না আমার আপাতত কোন প্রতিষ্ঠান করার ইচ্ছা নেই। পিক্সেল একটি ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠান, এটি ভার্চুয়ালই রাখতে চাই। বর্তমানে পিক্সেল এর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, ইনশাআল্লাহ্‌ খুব শিঘ্রই সবাইকে জানিয়ে দেব এব্যাপারে। তাছাড়া একটু আগেই বলেছি আমি বেশ কয়েকবার টিম নিয়ে কাজ করতে গিয়েছি। আমি টিম ওয়ার্ক খুব পছন্দ করি, সেজন্য নিজেই আমার পছন্দের একটি প্রতিষ্ঠানে জব পেয়েছি এবং সেটা নিষ্ঠার সাথে করছি। আল্লাহ্‌র রহমতে আমার অনেক স্বপ্নই পূরন হয়েছে, আরও ছোট ছোট অনেক স্বপ্ন রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যেটা, সেটা হল আমি একটানা কয়েক বছর ধরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে ভবঘুরের মত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেতে চাই এবং ছবি তুলতে চাই। জানিনা আমার এই স্বপ্ন পূরন হবে কিনা, তবে বয়স ৩৫/৪০ পার হয়ে গেলে এই স্বপ্ন আমি আর দেখবো না।

জব এবং ফ্রিল্যান্সিং, দুইটা মিলিয়ে কাজ করেন কিভাবে? কিভাবে ম্যানেজ করেন প্রতিদিনকার সবকিছু?

আমিতো বলেছিই আমার ফ্রিল্যান্সিং লাইফস্টাইলটা একটু ভিন্ন। প্রোডাক্ট সেল করি বিধায় প্রতিদিনই প্রোডাক্ট বানাতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অফিস টাইম সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, এরপর বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু খেয়ে স্ত্রীকে কিছুক্ষন সময় দেই, এরপর টুকিটাকি কাজ করি। কখনো পিক্সেল এর জন্য কিংবা মার্কেটপ্লেসের জন্য প্রোডাক্ট বানাই, কখনো স্ত্রীকে নিয়ে মুভি দেখি, ওকে নিয়ে বাইরে বের হই খাওয়া দাওয়া কিংবা শপিং এর জন্য। আর শুক্রবারে সারাদিন নিজেকে পুরোপুরি ফ্রি রাখি। বিকেলে ঘুরতে বের হই অথবা কাছের মানুষদের বাসায় গিয়ে আড্ডা দেই। রাতে ইচ্ছে হলে একটু কাজ করি… এইতো।

আপনার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজাইন কমিউনিটির অবস্থান কেমন? ভবিষতে কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

বাংলাদেশের ডিজাইন কমিউনিটি খুবই ভাল। অনেকেই এখান থেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে, সাহায্য নিচ্ছে, সাহায্য করছে। এসব দেখে আমিও মানসিক তৃপ্তি পাই অনেক। আমি যখন শুরু করি তখন এই কমিউনিটি থাকলে আমিও অনেক উপকার পেতাম। তবে ভবিষ্যতে এই কমিউনিটি আরও অনেক ভাল করবে। সীমাবদ্ধতা এক জায়গাতেই, ডিজাইন কমিউনিটির কাজ-কর্ম শুধুমাত্র ফেসবুকেই দেখা যায়। এর জন্য আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এবং গেট টুগেদার হওয়া উচিত তাহলে আমাদের এই সুন্দর কমিউনিটি আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।

যারা ভবিষ্যতের গ্রাফিক ডিজাইনার হতে যাচ্ছে তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে আপনার উপদেশ কী হবে? ঠিক কিভাবে কাজ করলে তারাও একদিন আপনার মতো হতে পারবে?

এখানে আমার আপত্তি আছে, কেন মানুষ আমার মত হবে? মাঝে মাঝে ফেসবুকে এরকম কমেন্ট পাই যে, “দোয়া করেন ভাই যাতে একদিন আপনার মত ডিজাইনার হতে পারি”। প্রত্যেকবারই আমি একই ধরনের রিপ্লাই দিয়েছি, “কেন আমার মত ডিজাইনার হবেন, আমার চেয়ে ভাল কেন হতে চান না? স্বপ্নটা বড় করেন, প্রাপ্তিটাও তাহলে বিশাল হবে”।

আর ভাল ডিজাইনার হতে হলে প্রথম দুইটি জিনিস অবশ্যই করতে হবে। বাকিগুলো করলে ভাল, দ্রুত ভাল ডিজাইনার হবার পথে সহায়ক।

১. সিনিয়র এবং সাকসেসফুল ডিজাইনারদের ডিজাইন পর্যবেক্ষন করার অভ্যাস থাকতে হবে।

২. প্রচুর প্র্যাকটিস করার অভ্যাস করতে হবে।

৩. ১০০টি টিউটোরিয়াল দেখে দেখে যাওয়ার চেয়ে ১০টি টিউটোরিয়াল একটি একটি করে দেখে সাথে সাথে প্র্যাকটিস করা উচিত।

৪. কমিউনিটিতে ডিজাইন শেয়ার করলে ভাল এবং সমালোচনা পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখা উচিত।

৫. সবসময় সফটওয়্যারের লেটেস্ট ভার্সনগুলো ব্যবহার করলে ভাল হয় এবং অবশ্যই লেটেস্ট ভার্সনের ফিচারগুলো দেখে নিতে হবে।

৬. গুগল সার্চ করা জানতে হবে। গুগলে সার্চ করার অনেক টেকনিক আছে, সেটা গুগল থেকেই সার্চ করে জেনে নিন, Google Search Tips & Tricks।

৭. অন্য পেশায় টাকা বেশি ভেবে অন্য পেশায় সুইচ না করা। আপনার যদি ডিজাইন ভাল লাগে তবে হাল না ছেড়ে এটা নিয়েই লেগে থাকুন। লেগে থাকলে একদিন সফলতা আসবেই।

এক্ষেত্রে আমি আমার একটা উদাহরন দেই, প্রথমদিকে যখন ফটো এডিটিং প্র্যাকটিস করতাম তখন সবেমাত্র প্লাগ-ইন কি তা বুঝতে শুরু করেছি। লাকসামের সব জায়গায় এবং কুমিল্লার অনেক জায়গায় বিভিন্ন স্টুডিওতে আমি রিকুয়েস্ট করেছি Noiseware Portraiture প্লাগ-ইনটি আমাকে দেওয়ার জন্য। কেউ দিতে রাজি হয়নি, ৫০০-১০০০টাকাও দিতে চেয়েছিলাম আমি। একজন আবার ২১০০০ টাকা চেয়েছিলেন, কিন্তু অত টাকা দেবার সামর্থ্য আমার ছিলনা। কিছুদিন পর ঢাকায় যাই মামার বিয়ের দাওয়াতে। চিন্তা করুন তো? আমার মামার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হচ্ছে আর আমি সন্ধ্যা থেকে খিলগাঁও এর গোড়ান, তালতলা, তিলপাপাড়া, দক্ষিন বনশ্রী প্রজেক্টসহ ইত্যাদির সকল ফটো স্টুডিওর দোকানে হেটে হেটে পাগলের মত প্লাগইনটি খুজেছি; সেবার ঢাকায় প্রথমবার কি দ্বিতীয়বার গিয়েছিলাম, রাস্তাঘাট কিছুই চিনিনা। সকলেই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, পরে আবার লাকসামেরই এক বড় ভাই (আগে উনার কাছে যাইনি, নাম – জাকির হোসেন) সেটা আমাকে দিয়েছিলেন এবং কিভাবে ইনস্টল করতে হয় তাও দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

লিখতে গেলে লিস্ট অনেক বড় হয়ে যাবে, তবে যা বলেছি তা ফলো করলে যে কেউ ভাল এবং পরিচ্ছন্ন মনের ডিজাইনার হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্‌। পরিশেষে একটা কথাই বলি যেটা সবসময় মাথায় রাখবেন, “সফলতা সবসময় অহংকারের প্যাকেটে করে আসে। সফলতা বের করার পর প্যাকেটটা ফেলে দিতে হয়!”

Starry Night Illustration

আপনার সম্পর্কে আপনার কাছের মানুষের মতামত।

শিমুলের সাথে আমার আজ ১২ বছরের সম্পর্ক, এই ১২ বছরের মধ্যে আমি তাকে যতটুকু দেখেছি, আমার অন্যান্য ফ্রেন্ডদের থেকে তার চিন্তা ধারা ছিল সবার থেকে আলাদা। ও যা কিছু চিন্তা করে, অনেক বেশী ক্রিয়েটিভ ভাবে চিন্তা করে এবং চিন্তার গভীরতা থাকে অনেক বেশি। আমি তার খুব কাছ থেকে দেখা – সে যেই কাজটাই করে, খুব গুরুত্বের সাথে সুন্দর ভাবে তার সেরাটা দিয়ে হার্ডলি করে। এই জন্য তার কাজের ফিনিশিং থাকে অনেক সুন্দর। ইনশাআল্লাহ তার কর্মদক্ষতা এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তাধারার কারনে তার সাফল্যের শিখর থাকবে একদিন অনেক উপরে। All the best for my best friend, Shemul! – জাহিদ হাসান, ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনার

Shemul, the name I have come to know 8 years back from today. The boy have the most unique sense of knowing facts that how it has been done. That kind of curiosity is hardly found these days with lot of passion which is intrigued inside him. Designing a design and executing a design is far more different than the concept that usually clients walk by. I have found that Shemul has the ability to understand the concept that a buyer providing as well as he can perform in the field of creativity with aristocratic & significantful way which is undeniable.

May the almighty grant him all the knowledge he desire and earn so that we can get more and more expressive and beautiful graphical design everyday. – Kazi Serzill Hasan, Creative House of V

প্রতিভা সৃষ্টিকর্তার একটি সেরা দান, যাহা খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জোটে…. আর সেই ভাগ্যেই হয়তো জন্ম আমার অতি প্রিয় একজন মানুষ শিমুল ভাই….!!! সত্যিই অসাধারণ তার প্রতিভা, অসাধারণ সৃজনশীল তার প্রতিটা ডিজাইন…!!! শুধু তাই নয় তিনি একজন সৃজনশীল ফটোগ্রাফারও…!! তার তোলা প্রতিটা ছবিই যেন জীবন্ত ও ব্যতিক্রম…!!! তিনি যথেষ্ট ভালো মনের একজন মানুষ…!!! আর আমি বিশ্বাস করি ভালো মানুষ না হলে কখনও সৃজনশীল হওয়া সম্ভব নয়… – মিজানুর রহমান, লোগো ডিজাইনার এবং ইলাস্ট্রেটর

শূন্যস্থান পুরন করুন, আমি এই একই প্রশ্নের উত্তর গুলো ______ এর কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করব।

জাহিদ হাসান, মিজানুর রহমান, কাজী সারজিল হাসান

(এই আর্টিকেলটি পাবলিশ হতে সহায়তা করেছেন আল আমিন হোসাইন )

Shares